আসন্ন জি-২০ সম্মেলন বৈশ্বিক অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোকে সামনে নিয়ে আসবে এবং তা অর্জনে ভূমিকা রাখবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জি-২০ সম্মেলন : ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি’ শীর্ষক সেমিনারে ‘ পরিবেশ এবং সবুজায়নের জীবনধারা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূত এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সংহতিতে জি-২০ সফল। অনেকে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে। আমরাও বলছি। এর জন্য ভিন্নতা ছাড়তে হবে। জি-২০ এর নীতি অনুযায়ী সারা বিশ্ব যদি একটি পরিবার হয় তাহলে আমরা সেই পরিবারে কিভাবে থাকব? এই সংযুক্তির ফলে আমরা যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি, তার সমাধান ও আমাদের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৯-১০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে দুদিনব্যাপী জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। শীর্ষ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশ এ বিষয়ে একটি সেমিনার করে প্রস্তুতি নিল।
৫টি পর্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। এরপর নারী উন্নয়ন, পরিবেশ এবং সবুজায়নের জীবনধারা, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশ এবং সবুজায়নের জীবনধারা শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় সাবের হোসেন চৌধুরী ছাড়াও আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ এবং ভুটান) আব্দুল সিক।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে নানা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বৈষম্য দূর করতে বাজেটে বরাদ্দ রেখেছে। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে এসব আলোচনায় আনতে হবে এবং এর সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেমিনারে সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, গ্যাবন, নাইজার, মালিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। চলমান সহিংসতা ও সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের কারণে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমে যেতে পারে। এসডিজি লক্ষ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক অগ্রাধিকার ইস্যুগুলোকে পেছনে ফেলে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ওই সমস্যাগুলো সামনে চলে আসতে পারে। বৈশ্বিক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে সামনের বহুপক্ষীয় ফোরাম বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অংশীদার ছিল এবং সেটির ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। এ কারণে ভারতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ককে অন্যরা ‘প্রতিবেশী কূটনীতির’ মডেল হিসেবে অভিহিত করে জানিয়ে তিনি বলেন, গেøাবাল সাউথের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জি-২০ সম্মেলনে ভারত একটি বিরাট পরিবর্তন এনেছে। একই ধরনের মনোভাব স¤প্রতি জোহানেসবার্গে ব্রিকস সম্মেলনে ছিল, যেখানে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আফ্রিকা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে এ ধরনের দুটি শীর্ষ সম্মেলন হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছে বিশ্ব আবারো বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, জি-২০ সম্মেলনে বিশ্বের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে।