আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে একবার ব্যবহারযোগ্য (ওয়ান টাইম) প্লাস্টিকের ওপর দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী এবং বিশেষজ্ঞরা। গতকাল বুধবার রাজধানীর পর্যটন ভবনে ‘প্লাস্টিক পল্যুশন টুওয়ার্ডস প্লাস্টিক ট্রিটি নেগোসিয়েশন’ শীর্ষক একটি নীতিনির্ধারণী আলোচনাসভায় এ আহ্বান জানানো হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডো।
অনুষ্ঠানের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ মানব সমাজ এবং পরিবেশ উভয়ের জন্য একটি মারাত্মক সমস্যা। দূষণ কমাতে সরকার ও জনসাধারণের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যা বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তির পথ সুগম করবে। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, কারণ এটি জলবায়ু পরিবর্তনে আরও বেশি অবদান রাখে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসডো চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই পলিথিনের ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। তা সত্ত্বেও আমরা প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা মোকাবিলা করতে পিছিয়ে আছি। বিশ্বব্যাপী পলিথিনের ব্যাগ নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্লাস্টিক দূষণের অবসান ঘটাতে হবে এবং খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সাবেক সচিব ড. মাহফুজুল হক বলেন, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস করা, বিকল্প পণ্য ব্যবহার করা এবং রিফিল সিস্টেম বেছে নেওয়ার মতো ছোট পদক্ষেপগুলো সম্মিলিতভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তি কেবল একটি কাগজের টুকরা নয়; আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোও এখন প্লাস্টিকের আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করছে এবং আমাদের সমুদ্রসৈকতগুলোকে দূষিত করছে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে প্লাস্টিক বর্জ্যকে এর উৎস থেকে আলাদা করতে হবে। আলোচনা অনুষ্ঠানে এক উপস্থাপনায় বলা হয়, গত বছর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের ১৮টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ৩৪৫ টন একবার ব্যবহারেযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮০২ টন আসে ভারত এবং মিয়ানমার থেকে। প্রতি বছর প্রায় ২.৬ মিলিয়ন টন একক ব্যবহারের প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন টন আন্তঃসীমান্ত বর্জ্য।
অনুষ্ঠানে এসডোর বোর্ড সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ, মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, এনবিআর, এফবিসিসিআই, জেডিপিসি, বেলা, লালমাটিয়া স্কুল শিক্ষার্থী, এসডোর গ্রিন ক্লাবের সদস্য এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ইপেপার পড়তে এখানে ক্লিক করুনঃ