পৃথিবীতে প্রতিবাদের ভাষা বিভিন্ন। সেটা প্রকটভাবে চোখে পড়ে বাইরের দেশে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ দেখলে। আমাদের দেশের মত ভাড়াকরা লোক দিয়ে বিশাল সমাবেশ করে, তীব্র শব্দদূষণ ঘটিয়ে প্রতিবাদ এশিয়ার কোনও কোনও দেশে দেশে হলেও ইউরোপে এর ভঙ্গিটা একটু ভিন্ন। হ্যান্ডমাইকে দাবির সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার প্রথা থাকলেও মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয়ের একটিও ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। আর অংশগ্রহণকারীরাও ভাড়াটে নয়। নিতান্তই নিজেদের বোধের জায়গা থেকে তারা একত্র হয়। স্কটল্যান্ডের হিমশীতল আবহাওয়ায় আমরা যখন নিজেদের অস্তিত্বরক্ষায় কোট, ওভারকোট, কানটুপি, গ্লাভস ইত্যাতকার গরম পোশাকে আচ্ছাদিত হবার চেষ্টায় লিপ্ত, তখন এই প্রতিবাদী মানুষগুলো সোচ্চার থেকেছে আমাদের এই বসুন্ধরাকে আমাদের মতোই কিছু অবিমৃশ্য মানুষের সৃষ্ট অপঘাত থেকে বাঁচাতে। সাদা কাফনের কাপড়ে নিজেকে মুড়ে, রংবেরঙের সজ্জায় বর্ণিল উপস্থাপনায় কেবলই বলতে চেয়েছে, ‘দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর’। শিল্পায়নের নামে কার্বন নিঃসরণ নয়, চাই দূষণমুক্ত প্রাকৃতিক সহজতা। নির্লোভ, সচেতন মানুষগুলো সম্মেলনগামী কাউকে দেখলেই উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞেস করেছে, ‘Are you optimistic with this Summit?’